মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাদারীপুরে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখেই গলায় ফাঁস চিকিৎসকের ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে হাসনাত আবদুল্লাহ নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন বেগম রোকেয়া পঞ্চগড়ে আরও বাড়লো শীত, তাপমাত্রা ১০.৪ ডিগ্রি আশাশুনিতে পরিবার তন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত ডিলার সিন্ডিকেটে জিম্মি কৃষক; ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি! নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মতবিনিময় আরও পেছাল খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি মাদারীপুরে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর, টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

অনেক দেশ-সংস্থা মানবাধিকারের নামে দ্বিচারিতায় লিপ্ত: রাষ্ট্রপতি

সহ সম্পাদক / ৪৪৭ Time View
Update : রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, অনেক দেশ ও সংস্থা মানবাধিকারের নামে দ্বিচারিতায় লিপ্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রোববার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবাধিকার শাশ্বত ও সর্বজনীন অধিকার, কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটা সত্য যে, বিরাজমান বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেকবান যে কোনো মানুষকেই ব্যথিত করবে। অনেক দেশ ও সংস্থা মানবাধিকারের নামে দ্বিচারিতায় লিপ্ত হচ্ছে।

মো. সাহাবুদ্দিন মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে মানবাধিকার রক্ষায় সদা সজাগ থাকারও পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, শিশু হত্যা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন এসব সংঘাতের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, যুদ্ধ নয়; আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

কাতারের উদ্যোগ ফিলিস্তিনের গাজায় সম্প্রতিক সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য কাতার সরকারকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

বিশ্বের যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে সেখানেই দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব দেশ, মানবাধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হবেন বলেও রাষ্ট্রপতি আশা করেন।

দেশের যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে সেখানেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র ও দলমত নির্বিশেষে কমিশনকে নির্যাতিতদের পক্ষে এবং নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে মানবাধিকার চর্চা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশন যেন শোষিত ও নির্যাতিতদের কাছে আস্থা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হতে পারে সে লক্ষ্যে কমিশনকে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং নির্যাতনকারীদের শাস্তি দানে সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্কৃতির বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রকাশনা বৃদ্ধি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি, মানবাধিকার বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিশনকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেন তিনি।

সাহাবুদ্দিন বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সংলাপ, সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ শিক্ষা ও প্রচারসহ সহযোগিতা বৃদ্ধির সব কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও মতাদর্শের ব্যক্তি, যেমন-মসজিদের ইমাম, ধর্মগুরু, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে মানবাধিকার প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত করা গেলে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

রাষ্ট্রপতি আশা করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সব মানবাধিকার কর্মী, সংস্থা ও অংশীজনদের নিয়ে একযোগে কাজ করে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে শক্তশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর