সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

সরকার পড়ে যাবে; অত সহজ না-প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / ১২৭ Time View
Update : বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩

অগ্নিসন্ত্রাস করে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের জীবন কেড়ে নেবে, মানুষকে ভোট দিতে দেবে না, নির্বাচন বন্ধ করবে, এত সাহস কোথা থেকে পায়? বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কুলাঙ্গার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই লন্ডনে বসে একটা কুলাঙ্গার হুকুম দেয় আর কতগুলো লোক নিয়ে এখানে আগুন নিয়ে খেলে। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে আগুনেই হাত পোড়ে এটা তাদের মনে রাখা উচিত। তারা মনে করেছে দুইটা আগুন দিলেই সরকার পড়ে যাবে। অত সহজ না। অত ভাত দুধ দিয়ে খায় না।’

বুধবার ২০ ডিসেম্বর বিকালে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত নৌকার প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা লুটেরা, খুনি, হত্যাকারী, দুর্নীতিবাজ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী তারাই এদেশের মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ায়। নির্বাচন বানচাল করতে চায়। ’

বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘একটা অনুরোধ আপনাদের কাছে; সেটা হলো আজকে সমস্ত জায়গায়, বোমাবাজি, খুন আর অগ্নিসন্ত্রাস এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা এর বিরুদ্ধে সকলকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ’

নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নৌকা মার্কা; এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা, এই নৌকায় কিন্তু মানবজাতিকে রক্ষা করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এই নৌকায় ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। আবার এই নৌকা যখন সরকারে এসেছে, নৌকা মার্কায় ভোট পেয়ে যখন আমরা সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা যাদের নৌকা মার্কার প্রার্থী দিয়েছি তাদেরকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। উন্নয়নের জন্য সেই নৌকা মার্কায় ভোট দিন। বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন। আপনাদের কাছে সেটাই আমার আহ্বান। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আছে জনগণের উন্নতি হচ্ছে। আজকে দারিদ্র মুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলা এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি। ’

২০০১ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলাম। ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দিলো না।  ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন দিলো না। দিলো না এই কারণে, বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস। আমেরিকা প্রস্তাব করল গ্যাস বিক্রি করতে হবে। কারণ আমেরিকার কোম্পানিরা এখানে গ্যাস উত্তোলন করে। আমি বলেছি আমি গ্যাস বেচব না। এই গ্যাস আমার জনগণের গ্যাস, এই গ্যাস জনগণের কাজে ব্যবহার হবে।’

‘আমি বিদ্যুৎ দেবো, সার কারখানা করব, পেট্রোকেমিক্যালস করব, জনগণের কল্যাণে ব্যয় করে ৫০ বছরের রিজার্ভ রেখে যদি অতিরিক্ত থাকে, তাহলে দেব। তারা খুব নাখোশ হলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেবেন না। তাছাড়া আমাদের দেশেরও কিছু লোক ছিল। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসলো বিএনপি-জামায়াত জোট’, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ৯৬ সালে জনগণের ভোট চুরি করেছিল ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। এই ভোট চুরির অপরাধে এ দেশের মানুষ আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। সেই ক্ষমতাচ্যুত ভোট চোর, জনগণের সম্পদ চোর বিএনপিকে আবার ক্ষমতায় বসালো ভোট কারচুপির মধ্য দিয়ে।’

‘গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল খালেদা জিয়া। যে- সে ক্ষমতায় গেলে গ্যাস বেচবে। সেজন্য তার পিঠে বাহবা দিয়ে তাকে ক্ষমতায় বসালো। রেজাল্ট কী? জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দুঃশাসন’, যোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, খালেদা জিয়া গ্যাস দিতে পারবে না। কারণ গ্যাস পাবেই না। আসলে পায়নি, দিতে পারেনি। এটা হলো বাস্তবতা। যে কূপ খনন করে খালেদা জিয়ার আমলে গ্যাস পায়নি, সেই একই জায়গায় কূপ খনন করে আওয়ামী লীগের আমলে আমরা শুধু গ্যাস না, এবার আমরা তেলও পেয়েছি।’

‘আল্লাহ যখন কাউকে কিছু দেয়, সেটা জন বুঝেই ধন দেয়, এটা হলো বাস্তব কথা। তারা জন বুঝে দেয়, এটাই আল্লাহর কাজ। আল্লাহ জানে ওদের কাছে দিলে সব নয়-ছয় করবে। আর আওয়ামী লীগের হাতে পড়লে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগবে’, বলেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা গণমানুষের দিকে তাকায়নি। মানুষের কল্যাণ করেনি। তারা লুটপাট, জনগণের ভোট চুরি— এই চুরি করাটাই ছিলে তাদের কাজ। তারা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনও কাজ করেনি। সেটা করলে অনেক আগেই বাংলাদেশের উন্নতি হতে পারতো। তারা এসেছিল ক্ষমতাকে ভোগ করতে। দেশে ফিরে এসে আমি দেখেছি— কীভাবে ক্ষমতা ভোগ করে কুক্ষিগত করে রাখে।’

শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান কে? মানিলন্ডারিং, গ্রেনেড হামলা, অস্ত্র চোরাকারবারী এবং দুর্নীতি। তাদের দুর্নীতির শাস্তি এফবিআই দিয়ে গেছে। কোনও দিন রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে চলে গেছে। আর  এখন ওখানে বসে বসে হুকুম দিয়ে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়। এটা হলো তাদের চরিত্র।’

সিলেট অঞ্চলে সরকারের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটবাসী সব সময় আমাদের পাশে আছে। আমরা সিলেটে যত উন্নয়ন করেছি, জানিনা সিলেটবাসী সেটা মাথায় রাখবেন কিনা?’ সিলেটে মেট্রোরেল স্থাপনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে সরকার প্রধান উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কাজই হচ্ছে জনগণের সেবা করা। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছি। স্মার্ট নাগরিক আমরা গড়ে তুলবো। স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি। করেই আমরা আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান-সম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।’

এছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শুরুর আগে সকালে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার তো বার্তা একটাই। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার যে স্বপ্ন আমার বাবা দেখেছেন, আমি সেটাই করতে চাই। আর আমরা নির্বাচনী প্রচারকাজ শুরু করেছি এবং আজকে আমরা এখানে এসেছি। হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগা ও শাহপরাণের দরগা আমরা জিয়ারত করব। এখানে জনসভা করব। এরপর আরও কয়েকটি জনসভা করব। আর তা ছাড়া এবার ভিডিও কনফারেন্সিং করেও অনেক জেলায় আমরা যোগাযোগটা রাখব, করব। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ, সেটা তো করতে হয়। আমার একটাই কথা, আওয়ামী লীগ সরকার আসলে জনগণের কল্যাণ হয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেছিলাম। বাংলাদেশের জনগণ ২০১৪ সালে আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এই যে সিলেটে আমি এসেছি, এই সিলেটে কিন্তু এখন আর কোনো ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষ নেই। প্রত্যেকটা ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে আমরা ঘর করে দিতে পেরেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক দিয়েছি তাদের চিকিৎসার জন্য। অর্থাৎ মানুষের যে মৌলিক চাহিদাগুলি, সেগুলো আমরা পূরণ করে যাচ্ছি এবং যেটুকু বাকি আছে, ইনশাআল্লাহ আগামীতে নির্বাচন ৭ জানুয়ারি, বাংলাদেশের জনগণ যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেয়, আবার যদি সরকার গঠন করতে পারি, পুরো বাংলাদেশটাকেই আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ করব। আর কোনো মানুষই ঠিকানাবিহীন থাকবে না, গৃহহীন-ভূমিহীন থাকবে না। এটাই আমাদের নিয়ত। আর কিচ্ছু না। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে বাংলাদেশটাকে উন্নত-সমৃদ্ধ করা। ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু সেটাকে কার্যকর করতে হবে। আমি জানি আমাদের সরকার আসলে পরেই এটা কার্যকর হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আরেকটা কথা হচ্ছে, যারা নির্বাচন করবে না, করবে না। কিন্তু আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, আগুন দিয়ে, সরকারি সম্পত্তির মালিক, এটা তো জনগণের সম্পত্তি। নতুন নতুন কোচ কিনে নিয়ে এনেছি, নতুন রেল, সেই রেললাইন তুলে ফেলে অ্যাক্সিডেন্ট করে মানুষ হত্যা করা, এটা তো সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কাজ, জঙ্গিবাদী কাজ। আর সেই সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে। কারণ বিএনপির তো এই একটাই, আমরা ২০১৩ সালে দেখেছি, ২০১৪-তেও দেখেছি, মানুষ পুড়িয়ে মারা। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? গতকালকে যে ঘটনাটা ঘটল, তারা তো হরতাল দিয়েছে, দেশের মানুষ তো হরতাল মানেও নাই। তাদের ডাকে কোনো সাড়াই দেয়নি। এটা তাদের বোঝা উচিত, এই দেশের মানুষ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়। আমরা ভোটের জন্য সব সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছি, আমাদের দলকেও যে, ঠিক আছে, সবাই দাঁড়াবে, সবাই কাজ করবে, জনগণ যাকে বেছে নেবে, সেটাই।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেখানে আমরা কী দেখলাম? রেলে আগুন দিলো। একটা মা সন্তানকে নিয়ে সেই আগুনে পুড়ে মারা গেল। মা সন্তানকে কিন্তু বুকের মধ্যে চেপে রেখে দিয়েছে। মানে এরচেয়ে কষ্টের সিন বোধ হয় আর কিছু হতে পারে না, কষ্টের দৃশ্য আর হতে পারে না। কী করে একটা মানুষ এভাবে করতে পারে? আজকে নারী, শিশু, পুলিশের ওপর হামলা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, চিফ জাস্টিসের বাড়িতে হামলা, জজ কোর্টে হামলা, জনগণের ওপর হামলা, এসব কোন ধরনের রাজনীতি। জনগণের কাছে তাদের কর্মসূচি নিয়ে যাবে, জনগণ যদি তাদের ডাকে সাড়া দেয়, তখন আসবে। কিন্তু মানুষকে মেরে একটা ভীতি সৃষ্টি করে তারা নির্বাচন বানচাল করছে। তাদের অভিজ্ঞতা নাই, তারা চেয়েছে সেটা পারেনি, ২০১৪ সালে পারেনি, তাহলে আবার কেন এই আগুন দিয়ে পোড়ানো?’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আর বেশ ভালোই খেলা চলছে। একজন লন্ডন বসে হুকুম দেয়, আর এখানে তার কিছু চ্যালা আছে আগুন দেয়। বাংলাদেশ নিয়ে এইভাবে খেলা, দুর্বৃত্তপরায়ণতা বাংলাদেশের মানুষের কেউ মেনে নেবে না। সেটাই আমরা চাই। মানুষ এত শান্তিতে ছিল, আজকে এত কষ্টের পরেও, কোভিড হলো, ইউক্রেন যুদ্ধ, স্যাংশন, সবকিছুর পরেও আমরা তো আমাদের অর্থনীতিটা ধরে রেখেছিলাম। মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা, ভর্তুকি দিয়ে দিয়ে আমরা তাদের জন্য খাবার কিনে নিয়ে এসে তাদের দিচ্ছি, সব রকম ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। রাস্তাঘাট সবকিছুই তো উন্নতি করেছি। কোথায় কোন জায়গাটা আমরা বাদ রেখেছি? আমাদের বিরুদ্ধে এখন আন্দোলন করার নাম দিয়ে তারা এভাবে দুর্বৃত্তপরায়ণতা করছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ভোট জনগণের অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার। সেই ভোট জনগণ দেবে। সেই ভোট দিতে জনগণ আসবে, তাদের বাধা দেওয়া, তাদের খুন করা, এই অধিকার কারো নাই। এটা বাংলাদেশের কেউ মানবেও না। এটা যারা করবে, তারা একদিন, আমি মনে করি এদেশের মানুষ তাদের উৎখাত করবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘(যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, তাদের বিরুদ্ধে) আমরা যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। সমস্ত জায়গায় আমরা পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই যে হঠাৎ হঠাৎ একেকটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলা, এই ঘটনাগুলো যারা এভাবে ঘটাচ্ছে… যারা এই অগ্নিসন্ত্রাসে জড়িত, যারা হত্যা করেছে, কারো ক্ষমা নাই। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবোই।’

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) নির্বাচন বানচাল করতে চায়। মানুষকে ভোট দিতে দেবে না। মানুষ কিন্তু ভোটের পক্ষে। মানুষ নির্বাচনের পক্ষে। মানুষ তো তাদের হরতালে সাড়া দিচ্ছে না। মানুষ বরং ভোটের মিছিলে যোগ দিচ্ছে। তাহলে এরপরেও কেন আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সেটাই আমার প্রশ্ন। এতে তাদের কী অর্জন হবে? হয়তো মানুষের দ্বারা আরও ধিক্কৃত হবে।’

বিদেশে বসে যারা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ইন্ধন দিচ্ছে, তারা কি সফল হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনোদিন সফল হবে না, হতে পারে না। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে জনগণকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, এটাই বাস্তবতা।’

এদিকে বুধবার সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠের দিকে আসতে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাউকে জনসভাস্থলে প্রবেশ করতে দেননি। এরপর নেতাকর্মী ও সমর্থক জনসাধারণকে প্রবেশ করতে দেওয়া হলে মুহূর্তেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে জনসভাস্থল। জনসমাবেশস্থলে সবাইকে শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর মধ্যে নারী সমর্থক ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেশি। মাঠে জায়গা না পেয়ে সড়ক থেকে শুরু করে বাসা-বাড়ির ছাদে বসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের অপেক্ষায় নেতাকর্মীদের থাকতে দেখা গেছে।

এর আগে বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৬০১ ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিমানবন্দরে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন খান।

এরপর হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে এখানে পৌঁছান শেখ হাসিনা, প্রথমে তিনি বিভাগীয় নগরীতে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। তিনি সেখানে কিছু সময় কাটান, পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। উভয় স্থানেই প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা তার সঙ্গে ছিলেন। এসময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ শ্লোগান এবং হাততালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মাজারে যাওয়ার পথে স্বাগত জানায়। এরপর বিকালে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে দলের নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জেবুন্নেছা হক, সিলেট সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, অভিনেত্রী তারিন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ। সঞ্চালনা করেন জেলা ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও অধ্যাপক জাকির হোসেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর