শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

নির্বাচনকে হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়: সিইসি

সিনিয়র রিপোর্টার / ৬৩ Time View
Update : সোমবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৪

নির্বাচনের বিষয়টিকে আমরা কখনও হালকাভাবে নেই, কখনও সিরিয়াস হই, উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘নির্বাচনটাকে কখনও হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। যতদূর সম্ভব নির্বাচনটাকে দৃশ্যমানভাবে স্বচ্ছ করতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট হচ্ছে। তা দৃশ্যমানতার মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।’

সোমবার ১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ,‍ সুষ্ঠু নিরপেক্ষতার প্রশ্নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে বলেও মনে করেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপি, কেন্দ্র দখল, পেশি শক্তির ব্যবহার, কালো টাকা বিতরণসহ নানা ধরনের অনিয়ম হয়। এগুলো প্রতিরোধ করে নির্বাচনটাকে দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।

নির্বাচনে দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়বদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনটা যেমন ডমেস্টিক ডাইমেনশন আছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ডাইমেনশনও আছে। ইন্টারন্যাশনাল ডায়মেনশনটাকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যাবে না। আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাছে আমাদের দেখাতে হবে নির্বাচনটা অবাধ, ‍সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় কূটনীতিকরা এসে আমাদের বলেন— নির্বাচনটা ভালো হতে হবে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। এ কথা বলার অধিকার ওনাদের রয়েছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটির অংশ হিসেবে এ দাবি তারা করতেই পারেন।

বিচারকদের উদ্দেশ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচন শুধু সুষ্ঠু হলে হবে না। নির্বাচন যে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে, ভোটরারা যে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে— তা বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে পাবলিক পারসেপশনটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাবলিক পারসেপশন এমন একটি বিষয় যদি একটি রং পারসেপশন গড়ে ওঠে, সেটাই সত্য হয়ে যায়। কাজেই অসত্য দৃষ্টিভঙ্গীও হতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়টিকে আমরা কখনও হালকাভাবে নেই, কখনও সিরিয়াস হই। নির্বাচনটাকে কখনও হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। যতদূর সম্ভব নির্বাচনটাকে দৃশ্যমানভাবে স্বচ্ছ করতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট হচ্ছে। তা দৃশ্যমানতার মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি জানান, ‘গণমাধ্যম ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তারা ছবি তুলতে পারবেন। পর্যবেক্ষকদেরও সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজন কমিশনকে করতে হয়। তবে ইসির একক শক্তিকে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমরা যত জনশক্তি চাইবো। সরকার তা দিতে বাধ্য। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের অধীনে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এখনো একটি স্থিতিশীল অবস্থানে এসে থিতু হতে পারেনি। আমরা স্বাধীনতার পর থেকে দেখেছি নির্বাচন পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ হয় না। কিন্তু মোটামুটি যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলেই সেটা নির্বাচন। নিরংকুশ অর্থে তিল পরিমাণ কোনও অনিয়ম হবে না সেটা কখনোই বলা যায় না। আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়ে গণঅভ্যুত্থান ও সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে নির্বাচন ভন্ডুল হয়ে গেছে। ফলাফল ভন্ডুল হয়ে গেছে।’

নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে কিছুটা উত্তাপ হবে, কিছুটা গন্ডগোল হতে পারে, কিছুটা সহিংসতা হতে পারে। এগুলো খুব বেশি ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু যেটা অসামান্য সহিংসতা সেটা অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ হয়ে থাকে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধ হচ্ছে। ছোট বড় অপরাধ। ছোট ছোট অপরাধ হচ্ছে। কিছু কিছু সহিংসতা হচ্ছে। সহিংসতাকে কোনভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয়। কারণ এটা জনমনে ভীতির সৃষ্টি করে। আমরা কখনো রক্ত দেখতে চাই না। মানুষকে আহত ও নিহত দেখতে চাই না। এজন্য এটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীতে নির্দেশণা দিয়েছি।

ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে একটি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় গেলে ভোটাররা প্রশ্ন করেন আমরা ভোট দিতে পারবো তো! যেকোনও কারণেই হোক একটা অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সেটা প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে সেটা ভোটদানে সর্বজনীন হয়ে ওঠেনি। সেখানে সহিংসতা হয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছিল। বিতর্কের অবস্থাটা জানি না, কিন্তু বিতর্ক হয়েছে। পাবলিক পারসেপশনটা ইতিবাচক হয়নি, এটাই সত্য।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর