বিরোধী কারা এই মুহূর্তে প্রকাশযোগ্য নয় : কাদের
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে কারা বিরোধী দল হবে তা এই মুহূর্তে প্রকাশযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন সরকার বসুক। সংশ্লিষ্ট যারা আছে তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি আছে, তাদের অনেকেই জিতেছেন। চৌদ্দ দলেরও দুজনের মত জয়ী হয়েছে । এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার সময় খুব দূরে নয়। যিনি হাউজ অব দ্য লিডার হবেন তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী, নতুন লিডার অব দ্য হাউজ বাস্তব পরিস্থিতি নিরিখে কি করণীয় সেটা অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনগণের প্রতিনিধি। তারা নির্বাচিত। এই নির্বাচিত সদস্য হিসেবেই সংসদে বসবেন তাদের ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া অন্য কিছু এই মুহুর্তে ভাববার অবকাশ নেই। ২৯৯ এর মধ্যে ২২২ একা একটা রাজনৈতিক দল জিতেছে। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী কত? অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ে স্বতন্ত্রই জিতবে বেশি। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগই। ২২২ জন রুলিং পার্টি থেকে জেতা এটা তো একটা পজিটিভ বাস্তবতা।
বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এটা স্বীকৃতির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্ব আমাদের ইলেকশনটা কেমন হয় জানতে চায়৷ আমরা বলেছি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ইলেকশন কন্ডাক্ট করবে। আমাদের এই কথার সাথে কাজের মিল আছে কি না গণতান্ত্রিক বিশ্ব সেটা প্রত্যক্ষ করুক সেজন্য আমরা এটা করেছি।
নির্বাচন নিয়ে করা বিএনপির মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশি বিদেশী সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক সবাই নির্বাচন দেখেছেন, প্রত্যক্ষ করেছেন এবং নিজেদের আপনাদের বিবেক আছে। পরিস্থিতি বুঝার ক্ষমতা আছে। নির্বাচনটা কেমন হয়েছে। বিএনপি জামায়াতের তীব্র বিরোধিতা ও নির্বাচন বিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এর মধ্যেও কতটা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে সেটা আপনারা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছেন। যা সত্য তা সব কিছুই আপনারা জানেন। আর যা কিছু মিথ্যাচার আপনারা দেখছেন। এখনো তার মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। জনগণের রায় কে অস্বীকার করে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। আমরা যে কোন মূল্যে সব ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কে প্রতিহত করতে, পরাজিত করতে বদ্ধ পরিকর।
বিএনপির আন্দোলন নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, এনপি কি বলেছে সেটার উপর তো দেশ চলে না। বিএনপি যেটা বলেছে সে অনুযায়ী তাদের আন্দোলন করে সরকার হটানো এটা তো তারা পারেনি করতে। এই নির্বাচনকে হতে দেয়া যাবে না এই কথাও তারা বলেছ্র। নির্বাচন শুধু হতে দেয়া নয়, নির্বাচন হতে দিবে না, প্রতিহত করবে সবই তো বলেছ্র কোনটা সত্য হলো? বলুন?
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এড জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী,স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক চাপা শামসুন্নাহার, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরায়জী, আনোয়ার হোসেন, ইসহাক আলী পান্না,সাঈদ খোকন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক৷ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুজ্জামান শিখরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।






