বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

বিএনপি-জামাতকে নিষিদ্ধের দাবি করলেন শেখ সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৪ Time View
Update : সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

বিএনপি-জামাতকে উগ্র সন্ত্রাসী স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন সরকার দলীয় সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, এরা রাষ্ট্রের শত্রু, স্বাধীনতার শত্রু। সাম্প্রদায়িকতা গণতন্ত্রের শত্রু। সন্ত্রাসী, জঙ্গী, স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি জামাতকে নিষিদ্ধের দাবি করেছি। সেলিম এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে আপনিই এটা পারবেন। বিএনপি-জামাত স্বাধীনতা বিরোধীদের নিষিদ্ধ করলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রিপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম এসব কথা বলেন।

শেখ সেলিম বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের স্বাধীনতাকে বাঁচাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশে কোন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যাতে রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য এ দাবি করছি। তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। এর যেন রাজনীতির নামে বাংলাদেশে খুন, সন্ত্রাস ও অরাজকতা করতে না পারে। আর যাকেই ধরতে পারবেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোন দয়া মায়া দেখানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি কোন রাজনৈতিক দল নয়। এরা জঙ্গী সন্ত্রাসী স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠী। তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। তারা সংবিধানকে তোয়াক্কা করে না। যারা সংবিধান নির্বাচন মানে না তারা আবার কী রাজনীতি করবে।

তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যকারীদের সন্ধানে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। বলেন, কারা এর পেছনে জড়িত ছিলো তা বেরিয়ে আসবে। যারা বঙ্গবন্ধুকে মারতে পারে তারা যেকোন ঘটনা ঘটাতে পারে।

দেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে বসে বিশ্বের বড় সন্ত্রাসী দাউস ইব্রাহিমের সাথে বৈঠক করে। কীভাবে বাংলাদেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি করা যায়, উন্নয়নের অব্যাহত ধারা বন্ধ করতে ষড়যন্ত্র করছে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে শেখ সেলিম বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে অগ্রসর হন তখন অতি বিপ্লবী, প্রতিবিপ্লবী.. স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর সাথে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা জড়িত ছিলো। উগ্রপন্থী সিরাজ সিকদার, সর্বহারা হকিত্বোহা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, লাল পতাকা বাহিনীর থানা লুট, ব্যাংক লুট, পাটের গুদামে আগুন, মানুষ হত্যা। ৭ জন সংসদ সদস্যকেও হত্যা করা হয়। কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বে গণবাহিনী ও জাসদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাড়িতে সশস্ত্র আক্রমন করে। কর্ণেল ওসমানী গণতন্ত্র বলে বুক ফাটিয়ে ফেলতো, সে খুনি মোশতাকের সামরিক উপদেষ্টা হয়। গণবাহিনীর প্রধান কর্ণেল তাহের বাহিনী রেডিও স্টেশনে গিয়ে খুনিদের সমর্থন জানায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার গণবাহিনী-জাসদ এরা যে বৈজ্ঞানিক সমাজন্ত্রের কথা বলে বঙ্গবন্ধুকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর চারপাশে যে শক্তিগুলো ছিলো সেখান থেকে ষড়যন্ত্র না হলে বঙ্গবন্ধুর গায়ে কেউ হাত দিতে পারতো না। বড় একটা চক্র বঙ্গবন্ধুর আশপাশে ঘুরে তাকে বিভ্রান্ত করেছে।

তিনি বলেন, কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী এখনো আইনের শাসন মানবাধিকারের কথা বলে টেলিভিশনের পর্দা ফাটিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এইসব বুদ্ধিজীবীরা সেদিন কোথায় ছিলেন ?

আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র এমপি বলেন, জিয়া ছিলো আইএসআই-এর এজেন্ট। জিয়ার জন্ম পাকিস্তানে। তার পড়াশুনাও পাকিস্তানে। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালে আইএসআই এর এজেন্ট হিসেবে জিয়াকে বাংলাদেশ পোস্টিং দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপি-জামাত একের পর এক নাশকতা শুরু করে। লণ্ডনে বসে তারেক জিয়া অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে জনগণ তার জবাব দিয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর