সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

হজ্ব নয়, সরকারি কর্মচারীদের হাজীদের খেদমতে সৌদি আরব পাঠানো হয়: ধর্মমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
ফাইল ছবি

হজ্ব মৌসুমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের হজ্বের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় না উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেছেন, হজ্ব ব্যবস্থাপনা ও হাজিদের সেবা প্রদানে বিভিন্ন টিমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

এর আগে ঢাকা-১৯ আসনের এমপি সাইফুল তার প্রশ্নে বলেন, প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী সরকারি টাকায় হজ্বে যায়। সরকারি টাকা/অর্থ জনগণের টাকা। অন্যের টাকায় হজ্ব সঠিক হইবে কিনা; এবং যে সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী হজ্বে যায় তারা হাজীদের কতটুকু খেদমত করে?

জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ্ব ব্যবস্থাপনা ও হাজীদের সেবা প্রদানের দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন টীমে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে সৌদিআরবে পাঠানো হয়ে থাকে। বাংলাদেশি হাজীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় মেডিকেল সেন্টার ও ক্লিনিক। মিনা-আরাফা মুজদালিফা-জামারা এবং মক্কা ও মদিনায় হাজীদের সেবার উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা (হজ প্রতিনিধি টীম, হজ প্রশাসনিক টীম, হজ মেডিকেল টীম, হজ কারিগরী টাম এবং হজ প্রশাসনিক সহায়তাকারী) বিভিন্ন টার্মে সৌদি আরব প্রেরণ করা হইয়া থাকে। সরকারি টাকায় হজ করতে তাদেরকে পাঠানো হয় না।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বয়স্ক হাজীদের চিকিৎসা সেবাসহ সকল ক্ষেত্রে টিমের সদস্যগণ হাজীদের যথাযথ খেদমত করে থাকেন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, সারাদেশে প্রায় তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৃহৎ জনবলের ভাতা দেয়া আপাতত সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজলের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় রিয়ালের মূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই সরকারের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও হজের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম হজে প্রেরণকারী দেশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বিগত বছরগুলোর মত ২০২৪ সালেও যাতে পূর্ণ কোটায় হজযাত্রী হজে যেতে পারে সেজন্য ২০২৩ সালের হজের চেয়ে ৯২ হাজার ৪৫০ টাকা কময়ে ২০২৪ সালে হজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা মূল্যের সাধারন হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে সকল শ্রেনি পেশার মানুষ হজে যেতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে মক্কা ও মদিনায় অনেক এলাকায় বাড়ি ও হোটেল ভেঙ্গে ফেলায় বাড়ি ভাড়া ব্যয় এ বছর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক নানা কারণে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় রিয়ালের মূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মিনায় মিনা আরাফায় তাবু ভাড়াসহ মেয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল কারণে সরকারের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও হজের ব্যয় আর কমানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অধিক সুযোগ সুবিধা আশা করেন এই রকম হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি মাধ্যমের বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি আদর্শের কারণে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির উন্নতি হচ্ছে।

 দেশের মোট নদী ১০০৮টি

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট নদীর সংখ্যা ১০০৮টি। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে বাংলাদেশে প্রবাহমান নদী রয়েছে ৯৩১টি। নাব্যতা হারিয়েছে এমন নদীর সংখ্যা ৩০৮টি। নাব্যতা হারানো নদীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮৫টি, রংপুর বিভাগে ৭১টি, রাজশাহী বিভাগে ১৮টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১টি, সিলেট বিভাগে ১০টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬টি ও খুলনা বিভাগে ৮৭টি।

ঢাকা-১৯ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা: সামন্ত লাল সেন বলেন, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্পে উত্তরোত্তর উন্নতি করেছে। দেশের মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ ঔষধ এখন দেশেই উৎপাদিত হয়। বিশ্বের ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রায় সব ঔষধই রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত ঔষুধ বিদেশে রপ্তানীতে উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছর ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

আনোয়ার খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে প্রায় ৫৯০০ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯০৩ টাকার ওষুধ রপ্তানি করা হয়েছে।

মো: আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় ৩২ প্রকারের ঔষধ ও সরকারি হাসপাতাল কে ১০৫প্রকারের ঔষধ বিনামূল্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর