বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:২০ অপরাহ্ন

‘মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৩৫ Time View
Update : সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। যথাযথভাবে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি পালন করবে দলটি। প্রিয় মাতৃভাষার মর্যাদা-অধিকার রক্ষা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত অগণিত শহিদের রক্তে রঞ্জিত দিবসটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র বাঙালি জাতির সাথে বরাবরের মতো এবারও শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ ও পালন করবে।

মহান শহিদ দিসব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে  শ্রদ্ধা নিবদন করবে। এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে। এতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতি করবেন।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা বেজে ০১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ (মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর)

সকাল ৬-৩০ মিনিটে: সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা অফিসে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৭-০০টা: কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহ আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহিদ কবর ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন।  (নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেট থেকে প্রভাত ফেরি শুরু হবে)।

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বৃহস্পতিবার:
বিকাল ৩টা: মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা।
স্থান: ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা।

সভাপতিত্ব করেন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি ‘মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সমর্থকদের যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের মানুষকে আহ্বান

দপ্তর সম্পাদক সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।  বাঙালি জাতির জীবনে একটি অবিস্মরণীয় দিন।  পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন ও শোষণের শৃঙ্খল ভেঙ্গে বাঙালি জাতিসত্তা গঠনের প্রথম ধাপ।  পাকিস্তানি শাসক শ্রেণী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত না হয়ে আমাদের কথ্য ভাষা “বাংলা” কেড়ে নিতে চায়।  মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন “উর্দু হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা”।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলার ছাত্রসমাজ এই ঘোষণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে পরিণত হয়।  পূর্ব বাংলার ছাত্ররা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।  ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল ডাকা হয়। এই হরতাল কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  যার ফলশ্রুতিতে পুলিশ তাকে নির্যাতন করে এবং ওই দিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়।  বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠিত হয়।  সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৪৯ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় ভাষা আন্দোলন তীব্রতর হয়। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ২৪ জন নেতাকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। অনেকে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেও বঙ্গবন্ধু তার নীতি ও আদর্শে অটল ছিলেন।  এরপর আন্দোলন কিছুটা দমে গেলেও ১৯৫২ সালের শুরু থেকে তা ভিন্ন রূপ নেয়। ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধু বন্দী অবস্থায় গোপন বৈঠক করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ভাষা দিবস পালন এবং সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের নির্দেশ দেন।  এছাড়া ১৯৫২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কারা হাসপাতালের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল ডেকেছিলেন।

গণপরিষদ ঘেরাও করার পরামর্শ দেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই আন্দোলনকে দমন করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু বাঙালি জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত সংগঠিত ছাত্র জনতাকে কোনোভাবেই দাবিয়ে রাখা যায়নি। ‘জাতীয় ভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে কম্পিত হয়ে ওঠে বাংলার আকাশ-বাতাস। রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অগণিত অজ্ঞাত শহিদের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ। ভাষা আন্দোলনের গতিকে দমন করতে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে আটকে রাখে। যাইহোক, কারাগারে থাকাকালীন, বঙ্গবন্ধু ‘বাংলার জাতীয় ভাষা প্রতিষ্ঠা’ এবং ‘রাজবন্দীদের মুক্তির’ দাবিতে এক সপ্তাহের অনশনে বসেন। মাতৃভাষার অধিকার ও জাতীয় ভাষা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল বীর বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও বীরত্বের গৌরবময় অধ্যায়।শহিদের রক্তে রাঙানো অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠা, আত্মবিকাশ ও আত্মবিশ্লেষণের দিন।

১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।  ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের চেতনা ও দেশপ্রেমে তিন লাখ শহিদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকায় তৈরি হয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর