শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

শহিদ বেদিতে জুতা পায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতা

Reporter Name / ৪৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে একুশের প্রথম প্রহরে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রাষ্ট্রপ্রতি মো: সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর একে একে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন। এছাড়াও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শহিদ মিনারের আগমন উপলক্ষে বরাবরের মতো ছিল নজীরবিহীন নিরাপত্তাবেষ্টনী। সারিবদ্ধভাবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে দিক-নির্দেশনায় সহযোগিতা করেছেন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কাউড- শিক্ষার্থীরা। তারপরও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা যখন শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে যান তখন সেখানে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এর মধ্যে সংগঠনের আইন-বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জগলুল কবিরকে দেখা যায় তিনি পায়ে জুতা পড়ে শহিদ বেদীতে পুষ্পমাল্য দিচ্ছেন। বিষয়টি চোখে পরার সাথে সাথেই গুঞ্জন শুরু হয় উপস্থিত জনতার মধ্যে। তিনিও বিষয়টি বুঝতে পেরে কৌশলে এড়িয়ে যান এবং শহিদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণসহ হাটাহাটিতে অংশ নেন পায়ে জুতা পড়েই। তার এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এই নেতাকে ঘিরে শীর্ষ-নেতৃত্বের দিকে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড় বইছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী সোনালী বার্তাকে জানান, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের শহীদ বেদীতে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আচরণ ছিল অমানবিক। একে অপরকে ন্যুনতম সম্মানটুকু দেখানোর প্রয়োজন অনুভব করেননি তারা। এভাবে ভাষাশহিদের প্রতি সম্মান জানানোটা আমাদের জন্য লজ্জার।

তিনি আরো বলেন, পায়ে জুতা পড়ে শহিদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা আমাদের জন্য লজ্জ্বাজনক ঘটনা। দায়িত্বশীল পদে থেকে এই রকম অমানবিক আচরণ ভাষা শহিদদের প্রতি অসম্মানজনক। দেশ ও দেশের স্বাধীনতা বিরোধী সমালোচকদের সুযোগ করে দিতে এই ধরণের আচরণ করা উচিত হয়নি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আইন-বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জগলুল কবিবের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি সোনালী বার্তাকে বলেন, শহিদ বেদীতে পুষ্পমাল্য দেয়ার একটি ছবিকে ঘিরে অনেকে কথা বলেছেন। কিন্তু আসল কথাটি হলো- ছবিতে যা দেখা গিয়েছে সেটি জুতা নয়; কাপড়ের মোজা। ভারী কাপড়ের মোজাকে অনেকে দুর থেকে জুতা বলে মনে করছেন। শহিদ বেদীতে জুতা পড়ে যাওয়ার প্রশ্নেই উঠে না।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বেশকয়েকজন সহ-সভাপতি সোনালী বার্তাকে বলছেন, যেখানে রাষ্ট্রের এক নম্বর নাগরিক মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পীকার, প্রধান বিচারপতিসহ সরকার ও বিভিন্ন বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা এমনকি বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদেরও খালি পায়ে ভাষা শহিদদের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়; সেখানে নিজে একজন আইনজীবী তারপরও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আইন-বিষয়ক সম্পাদক হয়ে জুতা পায়ে শহিদ বেদীতে পুষ্পমাল্য দিতে অংশগ্রহণ করেছেন বলে তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যা আমাদের জন্য বিব্রতকর। যদিও এই ধরণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়; আরও অনেকেই এই ধরণের ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। আগে যদি এই ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে হয়তো আমাদের ভবিষ্যতে আর এই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেন, জুতা পায়ে শহিদ বেদীতে যাওয়ার মধ্যে কোন সম্মান নেই বরং এটা সমগ্র জাতির কাছে ক্ষমার অযোগ্য বিষয়ও বটে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ সোনালী বার্তাকে বলেন, শহীদ মিনার ও শহিদ মিনারের বেদীতে কিভাবে সম্মান জানাতে হয় সেটা তো স্কুল থেকে শিখানো হয়। আমরা সাধারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরস্থান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞপনের জন্য খালি পায়ে যেয়ে থাকি। এমনকি মহামান্য রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী উনারা যেখানে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে খালি পায়ে যেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জলগুল কবিরকে ছবিতে দেখা যাচ্ছে উনি জুতা পড়ে শহিদ বেদী পুষ্পমাল্য দিচ্ছেন। আমি মনে করি এই বিষয়ে কারণ দর্শানো উচিত। এ ধরণের ও ওদ্ধত্য আচরণ মেনে নেয়া যায় না।

এই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোনালী বার্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত আছি; বলে ফোনকল কেটে দেন।

সোনালী বার্তা/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর