রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

দেশের ইতিহাসে মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ও শেখ সাদী খান (প্রিন্ট সংস্করণ) / ২৫৯ Time View
Update : বুধবার, ৬ মার্চ, ২০২৪

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। শুধু জাতীয় সংসদেই নয়; শেখ হাসিনা তার রাষ্ট্রপরিচালনায় নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মপরিধি সম্প্রসারণ করে যাচ্ছেন

নারী পুরুষের অবস্থানের তারতম্য ক্ষমতার দ্বারা ঘটিত হয়। নারীর উপর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ক্ষমতা বিস্তারের ফলে নারী অধস্তন অবস্থায় থাকে। মনে করা হয় নারীর ক্ষমতায়নের ফলে সামাজিক কাঠামোর মধ্যে একটা পরিবর্তন আসবে, যার কারণে সমাজে ক্ষমতার সমবন্টন ঘটবে। যদিও নারী ও পুরুষের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য। গোটা পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক অংশই নারী। আবহমানকাল থেকে নারী ও পুরুষের হাত ধরেই পৃথিবী সভ্যতার পথে এগিয়ে চলছে। সভ্যতার এ অগ্রযাত্রায় নারী ও পুরুষের উভয় অংশের অবদানই কোনো অংশে কম নয়। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নারী সৃষ্টির আধার, প্রাকৃতিক, জৈবিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ইতিবাচক রূপান্তরে বা বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নারী জড়িয়ে আছে আবহমানকাল থেকেই।’

পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদে মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৮ জন নারী। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চসংখ্যক নারীকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। সেক্ষেত্রে শুধু জাতীয় সংসদেই নয়; শেখ হাসিনা তার রাষ্ট্রপরিচালনায় নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মপরিধি সম্প্রসারণ করে যাচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর গুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, উপাচায্য, সচিব পদে নারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। যা অন্য কোনো সরকার করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব নির্বাচনেই অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রেও নারীদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই তার মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম নারী পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন ডা. দীপু মনিকে, প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হয়েছেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, প্রথম কৃষি মন্ত্রী হয়েছিলেন মতিয়া চৌধুরী এবং এবার প্রথম অর্থ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ওয়াসিকা আয়েশা খান। এমনকি দেশের প্রথম নারী স্পিকার হয়েছেন ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরী।

স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নারীদের। এই বিষয়ে আপনার মূল্যায়ণ কী? প্রশ্নের জবাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম সোনালী বার্তাকে বলেন, রাজণৈতিকভাবে আরপিওতে আছে ৩৩% নারী সংখ্যা থাকতে হবে।সেক্ষেত্রে হয়তো কিছু পরিবর্তনও করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পর স্বাধীন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ণ সবচেয়ে বেশি করছেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী সেখানে যোগ্য, মেধাবী নারীদের কেন বসিয়ে রাখবে? নারীরা এখন রাজনীতির সম্মুখভাগেও এগিয়ে আসছেন। তারা শুধুমাত্র মিটিং মিছিল করছেন না বরং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন; ডিসিশন মেকিংএ কাজ করছেন। বিভিন্ন পেশায় তার দক্ষতার সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন- আমি শুধু প্রধান বিচারপতি হিসেবে নারী দিতে পারিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল। অনেক যোগ্য নারী এই দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। নারীরা তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাই-বাছাইয়ে অনেক সময় বাদ পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকারই একমাত্র সরকার যে তাদের মূল্যায়ণ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নারী ক্ষমতায়ণ পদক্ষেপে আমি অত্যন্ত খুশি।

মন্ত্রিসভার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী মন্ত্রণালয়ে স্থান পেয়েছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায?িত্ব গ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৩৭ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় সর্বপ্রথম দুই নারী স্থান পান। শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হন বদরুন্নেসা আহমেদ আর সমাজকল্যাণ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হন নুরজাহান খুরশিদ। অবশ্য ২৫ জানুয়ারি গঠিত শেখ মুজিবের তৃতীয় মন্ত্রীসভায় ৩০ জন সদস্যের মধ্যে কোনো নারী ছিলেন না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জয়লাভ করে সদ্যগঠিত দল। এই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি কোন নারী। পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় থাকেন। এসময়েও মধ্যেও তার মন্ত্রণালয়ে স্থান হয়নি কোন নারীর।

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফেরে বাংলাদেশ। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে মন্ত্রিসভায় নারীরা জায়গা করে নিতে থাকেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ বিএনপি। সেবারই প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পায় বাংলাদেশ। খালেদা জিয়া ছাড়াও ওই সংসদে নারী মন্ত্রী ছিলেন একজন। ৩৩ সদস্যের মন্ত্রীসভায় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন জাহানারা বেগম।

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার প্রথম সংসদে ২৬ সদস্যের মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া নারী মন্ত্রী ছিলেন দুইজন- মতিয়া চৌধুরী ও সাজেদা চৌধুরী।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে আবারও ক্ষমতায় এসে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ বিএনপি। সেবার ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী নিয়ে ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা পান মাত্র দুইজন নারী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী হন বেগম খুরশীদ জাহান হক এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হন সেলিমা রহমান।

২০০৮ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আবারও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রীসভায় তিনি ছাড়া জায়গা পান পাঁচ নারী। সেবারই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়য়ের দায়িত্ব পান নারী রাজনীতিবিদরা। ৪৪ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন সাহারা খাতুন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন দীপু মনি, কৃষিমন্ত্রী হন মতিয়া চৌধুরী। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হন মন্নুজান সুফিয়ান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদে আবারও জয়লাভ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পান ৪ জন। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ৩১ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী হন। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ছিলেন তিনজন। কৃষিমন্ত্রী হন মতিয়া চৌধুরী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন মেহের আফরোজ চুমকি এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হন ইসমত আরা সাদেক।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা তৃতীবারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চতুর্থ মন্ত্রিসভা যেখানে জায়গা পান ৪৮ জন যাদের মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ১১ জন।
এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া জায়গা পান চারজন নারী। শিক্ষা মন্ত্রী হন দীপু মনি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হন মন্নুজান সুফিয়ান, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, আর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হন হাবিবুন নাহার।

আর ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী জায়গা পেয়েছেন মন্ত্রীসভায়। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে টানা জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এদিকে গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর ১১ জানুয়ারি ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শপথ নেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী। ২৫ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নারী মন্ত্রী ছিলেন দুইজন এবং প্রতিমন্ত্রী ছিলেন দুইজন।

গত শুক্রবার ১ মার্চ শপথ নেওয়া ৭ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে চারজন নারী। এতে শেখ হাসিনার ৪৪ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী মন্ত্রী হলেন আটজন। শতাংশের হিসেবে এটি ১৮.১৮ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন দীপু মনি, রুমানা আলী, সিমিন হোসেন রিমি, রোকেয়া সুলতানা, শামসুন নাহার, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং নাহিদ ইজাহার খান।

এদের মধ্যে দীপু মনি, রুমানা আলী ও সিমিন হোসেন রিমি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং দ্বিতীয় ধাপে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মন্ত্রী হওয়া রোকেয়া সুলতানা, শামসুন নাহার, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং নাহিদ ইজাহার খান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের আট নারী মন্ত্রীর বিস্তারিত-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারসহ পঞ্চমবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ৭ জানুয়ারি ২০১৯ শেখ হাসিনা চতুর্থবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
এর আগে শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রথমবার, ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে তৃতীয়বারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীপু মনি
বর্তমান মন্ত্রীসভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া দীপু মনি আওয়ামী লীগ সরকারের চতুর্থ মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায?িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ১৬৫টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

সিমিন হোসেন রিমি
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর-৪ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করা সিমিন হোসেন রিমি। সিমিন হোসেন রিমি এই আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তানজিম আহমদ সোহেল তাজের বড় বোন। সিমিন ও সোহেল তাজের বাবা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।

রুমানা আলী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন রুমানা আলী টুসী। তিনি গাজীপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং একাদশ জাতীয় সংসদে ১৪ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ।

রোকেয়া সুলতানা
রোকেয়া সুলতানা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা এবারই প্রথম সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শহিদ পরিবারের সন্তান রোকেয়া সুলতানা কুড়িগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কুড়িগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। মেডিকেল কলেজটির প্রথম ব্যাচের ছাত্রী তিনি। মেডিকেলে পড়ার সময় তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হন। টানা তিন কমিটিতেই এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বাবা শহীদ কবি মাহতাব উদ্দীনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে হত্যা করে। মাহতাব উদ্দীন পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার ছিলেন।

শামসুন নাহার
প্রথমবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়ার সময় থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত। ১৯৮৯-৮০ সালে শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদকের দায়িত্ব পান চাঁপা। এরপর থেকে টানা তিন কমিটিতেই এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

ওয়াসিকা আয়শা খান
আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা গত সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। গত দুই মেয়াদেও আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে তিনি।

নাহিদ ইজাহার খান
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ ইজাহার খান। এই মন্ত্রণালয়েও পূর্ণ মন্ত্রী না থাকায় নাহিদ ইজাহারই মন্ত্রণালয়ের পুরো দায়িত্ব পালন করবেন। টানা দ্বিতীয়বারের মত সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তার পিতা শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীর বিক্রম। মাতা নিলুফার দিলআফরোজ বানু। তার পৈতৃক আদি নিবাস ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাপা সোনালী বার্তাকে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন বলতে আমরা বুঝি নারীর নিজস্ব মূল্যবোধকে বিকশিত করা অর্থাৎ নারী যেন তার জীবনের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীন ও মর্যাদার অবস্থানে উন্নীত হতে পারে কোনরকম বাধা ছাড়া। নারী তার শিক্ষা, কর্মজীবন এবং নিজের জীবনযাত্রার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাথে ওতপ্রত ভাবে জড়িত নারীর শিক্ষা স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা এবং নারীর অধিকার ভোগ করার ক্ষমতা। লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন না হওয়া পর্যন্ত উন্নয়ন অসম্ভব। এ দুটো বিষয়ে যখন অর্জিত হবে তখন মানব সম্পদের গুণগত এবং পরিমাণ উভয়ই বেড়ে যাবে যা আমার অর্থনীতির চাকাকে করে তুলবে দারুনভাবে সচল। আজ থেকে প্রায় একশ পঞ্চাশ বছর আগে বেগম রোকিয়া এ কথাটি বলে গিয়েছিলেন তথাকথিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে। বেগম রোকেয়ার দেখানো আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে আমরা পাড়ি দিয়েছি অনেকটা পথ। আমাদের যেতে হবে আরো বহু দূর।এতকিছুর পরেও নারীর ক্ষমতায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্মীয় গোড়ামী, কুসংস্কার এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ বেগম রোকেয়া সুলতানা সোনালী বার্তাকে বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পাচঁটি অন্যতম একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য। সেই কঠিন একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী আমার উপর দিয়েছেন। সত্যি বলতে কি নারীর ক্ষমতায়নে কী করব বা কী করা যাবে তড়িগড়ি করে এই মূহুর্তে কিছু বলা ঠিক হবে না। এটা খুবই দুরহ ব্যাপার। কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করব; নারীর ক্ষমতায়নে নিজের অবস্থানে থেকে কি করতে পেরেছি, কি করছি। তবে এতোটুকু বলতে পারি মাথার উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন বটবৃক্ষ থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

সর্বক্ষেত্রে নারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে নাকি যোগ্যতার আলোকে মূল্যায়ণ করা হচ্ছে; এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারী বিরোধী নেতিবাচক মনোভাব আজও আমরা ঝেড়ে ফেলতে পারিনি। আজও আমরা তাদের গৃহস্থালির কাজের মর্যাদা দিতে কুন্ঠাবোধ করি। নারীদের কাজের স্বীকৃতি এবং মর্যাদা দিতে শিখতে হবে। প্রয়োজনে বিবেককে জাগ্রত করা।

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নারীর সু-শিক্ষার বিকল্প নেই। পুরুষের প্রতিদ্বন্দী এটা ভেবে নয়, সহকর্মী হিসেবে নারীকে মর্যাদা দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে হবে। তাহলে দেশের আর্ত্মসামাজিক উন্নয়নে নারী-পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণ দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেবে। প্রতিটি পরিবার থেকে সহযোগীতা পেলে নারী অনেক কিছু করার সক্ষমতা রাখবে নারীরা।

দেশের প্রথম নারী অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান সোনালী বার্তাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করে সাশ্রয়ী হওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান গড়াই প্রথম কাজ হবে। প্রধানমন্ত্রীর রূপান্তরকারী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দুর্নীতিমুক্ত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।

তিনি বলেন, নারীদের উন্নতির অন্তরায় এখনও নানা প্রতিবন্ধকতা আছে। সেই সব প্রতিবন্ধকাত দূর করতে নারীদের সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেজন্য নারী শিক্ষাকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে তাদের সার্বিক সহযোগীতা করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেননা নারীর কর্মদক্ষতায় অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে উন্নত, স্মার্ট, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়া হবে অপেক্ষকৃত সহজতর।

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার উপরে যে আস্থা রেখেছেন এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য দিয়েছেন। সেটা আমি শতভাগ পূর্ণ করতে চেষ্টা করব।

প্রসঙ্গত, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বের অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। মানব উন্নয়ন, প্রত্যাশিত গড় আয়ু বৃদ্ধি, প্রজনন হার হ্রাস, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা অর্জন, বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক এবং সর্বোপরি মাথাপিছু আয়ে ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিযে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

সোনালী বার্তা/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর