শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

রাজনৈতিক সংকট নেই, যার জন্য দলগুলোর মধ্যে সংলাপের প্রয়োজন আছে- ওবায়দুল কাদের 

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮৭ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪
ফাইল ছবি

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জাতির সামনে এখন এমন কোনো সংকট নেই, যার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আবশ্যকতা বা প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আজ বুধবার (১৩ মার্চ এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের অযৌক্তিক ও চিন্তাহীন বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার জনগণের ইচ্ছাকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনা করছে। দেশে কোনো গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট নেই এবং আগামী পাঁচ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সারাদেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশবিরোধী অপশক্তির বহুমুখী নিষ্ক্রিয়তা, ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতাকে পরাজিত করে দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ অবিবেচনাপ্রসূত ও অযৌক্তিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে সংলাপের মাধ্যমে সংলাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের ভারে বিধ্বস্থ জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির  এই আলোচনার আবদার অর্থহীন। কারণ তারা রাজনৈতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে আলোচনার জন্য ডাকা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। বরং তারা নির্বাচন বানচালের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা আজ কোন মুখে আলোচনার কথা বলে?
বিএনপি বরাবরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের শর্তসাপেক্ষে সংলাপের দাবি করে আসছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তারা এই দাবিতে সরকার পতনের তথাকথিত একমুখী আন্দোলনের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু দেশবাসী তাদের অযৌক্তিক দাবিতে সাড়া দেয়নি। আমরাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে আসছি যে শর্তসাপেক্ষে আলোচনার সুযোগ নেই। দেশবাসী ভুলেনি যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন।ওই ফোনালাপের সময় বেগম জিয়া বিদ্বেষপূর্ণ ও হিংসাত্মক আচরণ করেন। একইভাবে খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোর মৃত্যুর পর বিএনপি নেতার বাড়ির গেট থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে;  পারস্পরিক আলোচনার পথ রুদ্ধ করে। যারা গণতন্ত্রের পথ পরিহার করে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নির্বিচারে মানুষ হত্যায় লিপ্ত তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হতে পারে না।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশ এবং উন্নয়নে সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্রের পথকে মসৃণ করতে এবং গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত আদর্শ সু-প্রতিষ্ঠার জন্য  আওয়ামী লীগ যে কারো মত প্রকাশের পথ উন্মুক্ত রেখেছে। সেক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগ যে সংস্কার করেছে তা স্বীকৃতি দিয়ে যে কেউ ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের পথকে মসৃণ করার লক্ষ্যে যে কোনো প্রস্তাব দিতে পারে। আওয়ামী লীগ শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা নয়, দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো ষড়যন্ত্র বা চাপের মুখে কখনো জনস্বার্থে আপস করেনি। বাংলাদেশের অগ্রগতি ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর