সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

তীব্র তাপদাহের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৬ Time View
Update : সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৪

রাজধানীসহ সারাদেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মাঝারি থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। যা আরও ২ দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তীব্র এই তাপপ্রবাহে হাঁপিয়ে উঠেছে সব শ্রেণিপেশার মানুষ। এ অবস্থার মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না ওয়াসার পানি। এই দাবদাহের মধ্যে পানি না পেয়ে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন বহু মানুষ।

রাজধানীর বাড্ডা, নতুন বাজার, রামপুরা, মেরুল, ডিআইটি, মালিবাগ, বাসাবো, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পুরান ঢাকা, মুগদা, মান্ডা, লালবাগ, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সার্বিকভাবে পানি সরবরাহে ঘাটতি নেই। তবে কয়েকদিনের অসহনীয় গরমের কারণে পানির চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানির উৎপাদন কিছু কিছু জায়গায় কম হচ্ছে। সেসব জায়গায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আবার কিছু এলাকায় ঢাকা ওয়াসার গভীর নলকূপ কম থাকায় সেখানেও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না ওয়াসার পানি। এই দাবদাহের মধ্যে পানি না পেয়ে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন বহু মানুষ। ঢাকা ওয়াসার আওতায় ১০টি মডস জোনে বিশেষ গাড়ির মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে পানি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। এক্ষেত্রে প্রতি ছয় হাজার লিটারের একটি বড় গাড়ির জন্য নেয়া হয় ৬০০ টাকা। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি থাকায় সিরিয়াল দিয়ে বা ফোন করেও এসব পানির গাড়ি পাচ্ছেন না অনেকে। ৬০০ টাকার গাড়ির জন্য ১০০০ বা ১২০০ টাকা দিয়েও সিরিয়াল পাচ্ছেন না তারা।

ঢাকা ওয়াসার দাবি, চাহিদার তুলনায় বেশি পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। শীতকালে রাজধানীতে দৈনিক পানির চাহিদা থাকে ২১০ কোটি লিটার থেকে ২৪০ কোটি লিটার। গরমকাল এলে এটা বেড়ে ২৬০ কোটি লিটারে গিয়ে দাঁড়ায়। ওয়াসার সক্ষমতা রয়েছে ২৯০ কোটি লিটার উৎপাদনের। তারা এখন দেনিক ২৬০ কোটি লিটার উৎপাদন করছে।

শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা মহানগরীর পানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসার সব মডস জোনের কার্যক্রম তদারকির জন্য ১০টি মনিটরিং টিম গঠন করেছে ঢাকা ওয়াসা। রাজধানীতে পানির সমস্যা সমাধানে এসব টিম জুলাই মাস পর্যন্ত কার্যক্রম মনিটরিং করবে। এসব টিম জোনভিত্তিক পাম্পগুলো নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন করবে। পাম্প চালকরা যথানিয়মে দায়িত্ব পালন করছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হবে টিমগুলো। পরিদর্শনকালে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করবে এ টিম।

এদিকে আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া দপ্তর এ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। যশোর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে যশোরসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এ বিভাগের যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।

এমআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর