বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য আগাম সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৯ Time View
Update : শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

দুর্যোগের সময় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারেন সে জন্য জেলায় ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

শনিবার ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে ভার্চুয়াল একটি জরুরি সভা করেছেন।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। দুর্যোগের সময় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারেন সে জন্য জেলায় ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবে দুই লাখ ছয় হাজার মানুষ।

উপকূলীয় এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে আড়াই হাজারের অধিক রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির সেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রস্তুত রাখা হচ্ছে শুকনা খাবার। দুর্যোগ মোকাবেলায় নগদ টাকা ও চাল মজুদ রাখা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

জেলা মৎস্যজীবী নেতা শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, ঘুর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে জেলেরা কুলে ফিরতে শুরু করেছে। জেলেরা আগের থেকে এখন অনেক সচেতন। তবে এই জেলেরা যখন গভীর সমুদ্রে থাকে তখন হঠাৎ কোনো দুর্যোগ আসলে তারা কোনো খবর পায় না। তাই সাগরে মাছ ধরা

জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের আধুনিক ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি জানান এই মৎস্যজীবী নেতা।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল-বিরুনী বলেন, বাগেরহাট জেলায় ৩৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হয়েছে। এই ৬৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ ছাড়া অন্য পোল্ডারগুলোর বেশ কিছু পয়েন্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও জিওব্যাগ প্রস্তুত রেখেছি। বাঁধে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে কোথাও যাতে বাঁধ ভেঙে যেতে না পারে সেজন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক খালিদ হোসেন বলেন, “বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ইতিমধ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। চাল ও নগদ অর্থ মজুদ রয়েছে। জেলার সব সাইক্লোন সেল্টারগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। দুর্যোগ প্রবন এলাকার জনগণকে সরিয়ে নেয়ার প্রচারণা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন।

সবার সহযোগিতা নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে জানান এই জেলা প্রশাসক।

সোনালী বার্তা/এমএইচ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর