শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জে ভাইপার আতঙ্ক, ফসল কাটতে পারছে না কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৪ Time View
Update : রবিবার, ২ জুন, ২০২৪

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রবে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। একের পর এক বিষাক্ত এ সাপের দেখা মিলছে উপজেলার চরাঞ্চলের পদ্মা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায়।

গত মার্চ মাসে ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেওয়ার সময় বিষধর এই সাপের কামড়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। পচন ধরেছে একজনের দংশনের জায়গায়। এসব খবরে ভয়ে জমির ফসল ও গবাদি পশুর খাবার সংগ্রহ করতে পারছেন না কৃষকরা।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপারের মতো বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। সাপের কামড়ে চরাঞ্চলের কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়টা তারা অবগত রয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন,হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের কাঞ্চনপুর ও ফরিদপুর সদর উপজেলার চরে সেলিমপুর এলাকার দেড় শতাধিক কৃষক জমি চাষ করেন। ওই চরে ভুট্টা, বাদাম, তিল, আমন ও আউশ ধানের চাষ হয়। ভুট্টা ঘরে তোলা হয়েছে; এখন তিল ও ধানের চাষ করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে এক কৃষক তিল কেটে রেখে দেয়। পরে দুপুরে আঁটি বাঁধা সেই তিল তুলতে গিয়ে তিলের মধ্যে রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান। পরে তিল রেখেই শ্রমিকরা চলে যান।

এছাড়া কয়েকদিন আগে আজিমনগর ইউনিয়নের পশ্চিমচর এলাকায় সাপকে কেটে দুভাগ করেন আজ্জেম নামের এক কৃষক। একই ইউনিয়নের শিকারপুরে সাইদুল মোল্লা নামের আরেকজন কৃষক ফসলের জমিতে রাসেলস ভাইপার দেখে সেটি মেরে ফেলেন।

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলছিলেন, তার ইউনিয়নে গত ১ মার্চ রাসেলস ভাইপার সাপ একজন কৃষককে কামড় দিলে ৬-৭ দিন পর তার মৃত্যু হয়। এছাড়া চরাঞ্চলের ফরিদপুর জেলা সংলগ্ন পদ্মার চর এলাকায় কয়েকজনকে রাসেলস ভাইপার দংশন করে। তারা ফরিদপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে পদ্মা পাড়ের লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। এছাড়া আজিমনগর ইউনিয়ন ও সুতালড়ি ইউনিয়নের কৃষকরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আমিও বিষয়টা নিয়ে চিন্তায় আছি।

আজিমনগর ইউনিয়নের পশ্চিম চরের আজ্জেম শেখ বলেন, “ধান কাটা শ্রমিকরা জমির আইলে ইদুরের গর্তের ভেতরে সাপের মাথা দেখে। কৃষক আজ্জেম লাঠি দিয়ে সাপের মাথা আটকে রাখলে আরেকজন কাঁচি দিয়ে সাপকে দুভাগ করে।

পরে উঠিয়ে দেখে, সেটা রাসেলস ভাইপার সাপ। এরপর থেকে ধান কাটা বেশিরভাগ কৃষক ও শ্রমিকরা আতঙ্কে রয়েছেন।
আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন বলছিলেন, “আমার ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকায় একজন ও এনায়েতপুর এলাকায় আব্দুল্লাহ নামের এক যুবককে রাসেলস ভাইপার সাপ দংশন করে। একজনের দংশনের জায়গা পঁচে গেছে।“

আমার ইউনিয়ন ছাড়াও সুতালড়ি ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে পদ্মা পাড়ের লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। কৃষকরাও আতঙ্কে। আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি; সমাধানও পাচ্ছি না।

হরিরামপুর ‘শ্যামল নিসর্গ’ নামের পরিবেশ সংগঠনের উপদেষ্টা তৈয়বুল আজহার বলেন, “রাসেলস ভাইপার পৃথিবীর অন্যতম বিষধর ও ভয়কর সাপ। সাপটি পদ্মার তিনটি চরে দেখা গেলেও কয়েক মাস আগে হরিরামপুরের পদ্মাতীরবর্তী গ্রাম গরীবপুরে দেখা গেছে।

গত দুই বছর আগেও এই সাপ আমাদের এলাকায় দেখা যায়নি। ইদানিং ধানক্ষেত, ভুট্টাক্ষেতে দেখা যাচ্ছে।
ইঁদুর, ব্যাঙ ও টিকটিকি এই সাপের প্রধান খাদ্য জানিয়ে তিনি বলেন, “রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। শুধু মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে নয়, পদ্মা তীরবর্তী রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, শরীয়তপুরেও এই সাপের বংশ বৃদ্ধি হয়েছে।

এই বিষধর সাপ থেকে মানুষজনকে রক্ষার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে গণসচেতনতা তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন তৈয়বুল।
এ অবস্থায় হরিরামপুরের চরাঞ্চলের কৃষকদের জুতা পরে সতর্কতার সঙ্গে ধান কাটার পরামর্শ হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান খানের।
আর ইউএনও শাহরিয়ার রহমান বলছেন, “জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রথম অবস্থায় চরাঞ্চলে কৃষকদের বিশেষ জুতার ব্যবস্থা করবো। পরে শ্রমিকদের বিষয়টাও দেখবো।

এর আগে গত ১ মার্চ রঘুনাথপুরে লালমিয়া নামের এক কৃষককে ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেওয়ার সময় বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ কামড় দেয়।
তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পাঁচদিন পর লালমিয়ার মৃত্যু হয়।

সোনালী বার্তা/এমএইচ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর