শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

ট্রেনের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে কিল-ঘুষিতে প্রাণ গেল যাত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪

নরসিংদীর রেলস্টেশনে ট্রেনের ভেতর জানালার পাশে বসা নিয়ে তর্কের জেরে মঞ্জুর আহমেদ (৫৫) নামে এক যাত্রীর কিল-ঘুষিতে ঝুমুর কান্তি বাউল (৫২) নামে অপর এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদী রেলস্টেশনে ঢাকা মেইল ট্রেনের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রীকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
এদিকে অফিসে যাওয়ার পথে ঝুমুরের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও বন্ধুবান্ধরা। তারা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

নিহত যাত্রী ঝুমুর কান্তি বাউল নরসিংদী শহরের বীরপুরের এলাকার প্রত্যুত কুমার বাউলের ছেলে।

অপরদিকে অভিযুক্ত আটক হওয়া যাত্রী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মৃত হাফেজ মিয়ার ছেলে মঞ্জুর আহমেদ (৫৫)।

রেলওয়ে পুলিশ, স্বজন ও বন্ধুরা জানান, ঝুমুর কান্তি বাউল রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ডিএইচএস এলাকার ইনফেসন নামে একটি গার্মেন্টস কোম্পানির সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে চাকরি করেন। প্রতিদিন তিনি নরসিংদীর বীরপুর এলাকার বাড়ি থেকে ঢাকা মেইল ট্রেনে গিয়ে অফিস করেন। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় ঝুমুর কান্তি বাউল নরসিংদী থেকে ট্রেনের পেছনের বগিতে উঠেন। ট্রেনে উঠে তিনি জানালার পাশের সিটে বসতে চাইলে সিটে থাকা মঞ্জুর নামে আরেক যাত্রী তাকে বাধা দেন। তিনি হার্টের অসুস্থ রোগী বলে জানালেও মঞ্জুর কথা শোনেননি।

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটির একপর্যায়ে সিটে বসা মঞ্জুর জানালার পাশ থেকে সরানোর জন্য ঝুমুর বাউলকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। ঝুমুর বাউল উঠে দাঁড়িয়ে ধাক্কা কেন মারলেন কথা জানতে চাইলে মঞ্জুর ক্ষেপে গিয়ে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন ঝুমুর বাউল। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিলে রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজন তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আকাশ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সকালে স্টেশনে আমরা একজনকে ট্রেন থেকে ধরে নামাতে দেখি। পরে কাছে গিয়ে তার অবস্থা খারাপ দেখে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না স্বজন ও বন্ধুরা। তার বন্ধু মোস্তফা কামাল রতন বলেন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার কারণে ঝুমুর একই বগিতে জানালার পাশের একই স্থানে বসতেন। আজকে সে অসুস্থ বলে জায়গা চাওয়ার পর ও তাকে হত্যা করা হলো। এ ঘটনায় আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ঝুমুরের ৯ বছরের ও দেড় বছরের দুইটি মেয়ে আছে। বাবার এ মৃত্যুতে তারা এতিম হয়ে গেল। দাদা নাতনিদের ভবিষ্যৎ শঙ্কা জানিয়ে কেদেঁ ভেঙে পড়ছেন। ঝুমুরের বাবা প্রত্যুত কুমার বাউল বলেন, আজকে সে বাড়ি থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হয়েছিলো, আর বাড়ি ফিরলো লাশ হয়ে। আমার অসুস্থ ছেলেকে মারধর করে মেরে ফেললো। আমি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই, যাতে আর কেউ এমন তুচ্ছ ঘটনায় কেউ প্রাণ না হারায়।

এদিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশন ছেড়ে গেলে অভিযুক্ত যাত্রী মঞ্জুর আহমেদ ও সেই ট্রেনে চড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। এর আগেই যাত্রীরা বিভিন্ন গ্রুপে অভিযুক্ত ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করলে তা কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের নজরে আসে। পরে ট্রেনের ভেতর থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় তাকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. মুসা বলেন. তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে আসামিকে রেলওয়ে পুলিশ আটক করেছে। আর প্রতিদিন নরসিংদী থেকে ঢাকা কয়েক হাজার যাত্রী ট্রেনে আসা যাওয়া করেন। তার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম। পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হলে তারা যাত্রীদের নিরাপত্তায় আরও বেশি কাজ করতে পারবে।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ঝুমুর বাউল হার্টের রোগী ছিলেন। বুকে কিল-ঘুষি লাগায় হয়তো তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক মঞ্জুর আহমেদকে কমলাপুর থেকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

সোনালী বার্তা/এমএইচ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর