বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

ইসলামিক ফাইন্যান্স ছাড়া ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি সম্ভব নয়

সিনিয়র রিপোর্টার / ৩৫ Time View
Update : রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪

বাংলাদেশের মানুষ ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রতি বেশি আগ্রহী ও আস্থাশীল। অদূর ভবিষ্যতে সিংহভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান শরিয়াহর আলোকে পরিচালিত হবে। তাই ইসলামিক ফাইন্যান্স ছাড়া ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি সম্ভব নয়।

গত শনিবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ (সিএসবিআইবি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিং, অডিটিং অ্যান্ড গভর্ন্যান্স অব ইসলামিক ব্যাংকস’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী সেশনে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুল্লাহ শরীফ। প্রধান অতিথি হিসেবে সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ সেমিনারের উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের ফিক্বহ কমিটির চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী, বাহরাইনের বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসের (অ্যাওইফি) ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার মুগীস শওকাত, অ্যাওইফির স্ট্যান্ডার্ডস ইমপ্লেমেনটেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির সিনিয়র ম্যানেজার সায়্যিদ সিদ্দীক এবং বিআইবিএমের প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক মো. আলমগীর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুদ হারাম করেছেন। তাই আমি আমার ব্যাংককে কনভেনশনাল ব্যাংক থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তরিত করেছি। আর বর্তমানে এর কোনো বিকল্পও নেই। আমি আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সিংহভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। দেশকে সমৃদ্ধকরণে এর কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথি মুগীস শওকাত বলেন, সরকারের ভিশন ৪১-এ ৫০০ বিলিয়নের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ভিশন রয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স ব্যতীত এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রফেশনালদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।

সায়্যিদ সিদ্দীক তার বক্তব্যে অ্যাওফির ৬০০-এর বেশি বাংলাদেশি ফেলোকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য অ্যাওফি প্রবর্তিত ও সিএসবিআইবি পরিচালিত কোর্সগুলোতে ৮০ শতাংশ ছাড় সুবিধা ঘোষণা দেন, যা আগে ৭০ শতাংশ ছিল।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যতীত ব্যাংকিংয়ের সুফল সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সেমিনারে তিনটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয় এবং এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ বক্তারা।

উল্লেখ্য, ৮-১২ জুন পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শরিয়াহ অডিট অব ইসলামিক ব্যাংকিং শীর্ষক ট্রেনিং কোর্স’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ১২ জুন সমাপনী পর্ব বিআইবিএম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারে ২৩টি ব্যাংক থেকে ৪০ জন অংশগ্রহণকারী, দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিসহ প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

এমআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর